বই রিভিউ

koster status : কষ্টের গল্প ভরা একটি বই পড়ে নিন !

koster status পড়ুন ! আমাদের হোম কোয়ারেন্টাইনের আজ কত তম দিন চলে? এর মধ্যে নিশ্চয়ই আমরা খানিকটা বন্দী জীবনের স্বাদ পেয়েছি।
তাহলে ভাবুন তো, ২৫ মাস টানা একটা বাড়িতে বন্দী হয়ে দিনের পর দিন কেমন লাগবে? এরমধ্যে যদি আরো থাকে সাথে নিঃশব্দ চলাফেরা, জল ব্যবহারের কড়া নির্দেশনা, জানলা খোলার কড়া নির্দেশনাসহ খাওয়া দাওয়ার অমানবিক কষ্ট। আর এসব কিছুই একটা ডায়েরীতে বর্ণনা করে গেছে একটি তের চৌদ্দ বছর বয়সী কিশোরী আনা ফ্রাঙ্ক। আর এ ডায়েরী টা সে উপহার পেয়েছিল তার তেরো তম জন্মদিনে।
ইহুদী ফ্রাঙ্ক পরিবার জার্মানিতে নৎসিদের অত্যাচার হলেন্ডে এসে বসবাস শুরু করে যখন, তখন আনার বয়স ছ’বছর।  আনার আরেকটি বোন রয়েছে মার্গট, সে আনার চেয়ে দু বছরের বড়।
১৯৪২ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ হলেন্ডের দিকেও চলে আসে। আনার বাবার নামে শমন আসলে তারা বাবার অফিসের পেছনের দিকটায় আশ্রয় নেয় এবং তাদের সাথে আরও এক পরিবারসহ একজন ডাক্তারও যুক্ত হন। তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন ফ্রাঙ্ক পরিবারের কিছু বন্ধু।
কিন্তু সেই বন্দী সময়টাতে তেরো বছর বয়সী কিশোরী আনার মনে কি প্রভাব ফেলে? যার তখন ডানা মেলে উড়ে উড়ে চলার সময়, সে হয়ে পরে একদম বন্দী এক অন্ধকার কুঠুরিতে। koster status ভরা একটি ডায়রির গল্প!  তখন আশ্রয় নেয় ডায়েরীর পাতায়। ডায়েরীকে সে আদর করে ডাকে কিটি বলে। এই কিটির সাথে দিনের পর বলে যায় তার আত্মকথা। অদম্য তারুণ্যে ভরপুর আনা হয়ে পরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। বয়ঃসন্ধিকালের সময়ে সব বাচ্চারই মনে নানা জটিলতা প্রবেশ করে। তারা তখন আপন করে কাউকে চায় যে তার সমস্ত কথা বুঝবে। আনার এই বন্দী জীবনে এই সমস্যাটা আরো প্রকটভাবে ধরা পরে।
koster status ভরা একটি ডায়রির গল্প!
ডায়েরীর একটা পাতায় তার এরকম একটা আর্তনাদ ফুটে উঠে, পৃথিবীর অন্য ধর্মের বা অন্য ইহুদিরা কি কখনো বুঝবে, একটা তের চৌদ্দ বছরের চঞ্চল কিশোরীর যে কতো ইচ্ছে করে বাইরে খোলা আকাশের নিচে হাঁটতে, গায়ে সতেজ রোদ মাখতে?
তার সমস্ত কথাই ছিল সেই কিটির সাথে। সে কখনো তার মনের অবস্থা কাউকে বুঝতে দিতো না। মামণিকে তার দূরের মানুষ মনে হয়। মার্গটকে সে পুরোপুরি বিশ্বাস করে না মন খুলে কথা বলার মতো আর বাপিকে সে খুব ভালোবাসে তবুও যেন মন খোলা যায় না‌। koster status ভরা একটি ডায়রির গল্প! তাদের এই গুপ্তমহলে বন্দী জীবনে সকলের মধ্যেই মানসিক অধঃপতন ঘটে। তারা কখনো কখনো তুমুল ঝগড়ায় লিপ্ত হয় দু পরিবার বা ডাক্তারের সাথে। আবার কখনো কখনো অত্যধিক শান্ত হয়ে পরে সবাই। সে যে কি এক বিচ্ছিরি দিন মাস কাটছে তাদের।
আনা দিনদিন ভেতরে ভেতরে ভেঙে পরে কিন্তু তা সে কখনো কারো কাছে প্রকাশ করতে চায়নি। তাই তার আচরণ ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। সে চেয়েছিল এমন উপযুক্ত কেউ, যাকে সে তার মনের অবস্থা পুরোপুরি অনুধাবন করতে পারবে। বন্দীত্ব একটা মানুষকে তার বয়সের চেয়েও অনেক বড়ো করে দেয়। আনার ডায়েরীতে তার ছাপ স্পষ্ট। জীবন সম্পর্কে তার দার্শনিক ধারণা, ঈশ্বর সম্পর্কে ধারণা এসব কিছুই সে খুব গুছিয়ে বর্ণনা করেছে ডায়েরীতে।
একটা সময় আনা তার কাছাকাছি বয়সী ফানডান পরিবারের সন্তান প্যাটারকে বেছে নেয় মনের কথা বলার সঙ্গী হিসেবে। প্রথমদিকে যেখানে দুজন দুজনকে অপছন্দ করতো সেখানে তারা দুজনই আবার ধীরে ধীরে সবচেয়ে ভালো বন্ধু কাছের মানুষ হয়ে উঠে। কিন্তু আনার জন্য এটাও ছিল একটা কঠিন সিদ্ধান্ত। বন্দী জীবনে বিকল্প কোন অপশন না থাকায় পুরোপুরি প্যাটারকেই তার আঁকড়ে ধরতে হয়েছিল মনে অনেক দ্বিধাদ্বন্দ্ব রেখেও। দুর্বিষহ দিনগুলি যেন তখন রঙিন হয়ে উঠেছিল। তবুও আনা এক্ষেত্রে বাবার সাহায্য চেয়েছিল।
koster status ভরা একটি ডায়রির গল্প !বয়সের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমতি মেয়েটার বুদ্ধির পরিচয় পাওয়া যায় ডায়েরীর প্রতিটি পাতায়। প্রচন্ড তারুণ্য শক্তিতে ভরপুর ছিল তার মন। সে স্বপ্ন দেখতো বড়ো হওয়ার, ভালো মানুষ হওয়ার। প্রতিনিয়ত নিজের আত্মসমালোচনা করে আত্ম উন্নয়নের চেষ্টা করে গেছে মেয়েটা।
পৃথিবীর এই বর্তমান পরিস্থিতিতে মানসিকভাবে পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পরেছিলাম। যেখানে বই পড়ে দিনের পর দিন একরুমে কাটিয়ে দিতে পারতাম। সেখানে বই পড়াটাই যেন প্রচন্ড বিরক্তিকর লাগছিল। আমাদের একটা সহজাত প্রবৃত্তি হচ্ছে, নিজের থেকে অন্যের বেশি দুঃখ কষ্টের কথা ভাবলে নিজের কষ্টটা হালকা হয়ে যায়। এক্ষেত্রে এই মুহূর্তে আনা ফ্রাঙ্কের ডায়েরী একটা পার্ফেক্ট বই। মনের সকল অস্থিরতা যেন হালকা হয়ে গেছে।
প্রতিটি বই পড়ার পরই আমরা মন্তব্য করি বইটা ভালো লেগেছে বা মন্দ লেগেছে। এই বইটার ক্ষেত্রে আমি শব্দ সংকটে পরে গেছি। আমি কি করে বলতে পারি যে একজনের দুঃখ কষ্টের বর্ণনা পরে ভালো লেগেছে?! আমি বলতে পারি, আমার কষ্ট লেগেছে, তাদের জন্য খারাপ লেগেছে, বইটা আমার হৃদয় স্পর্শ করেছে।
koster status ভরা একটি ডায়রির গল্প!
এক আনার ডায়েরী উদ্ধার হওয়াতে আজ প্রায় ৭৫ বছর পরও তার আর্তচিৎকার শুনতে পাই। হাজারো আনা, হাজারো পরিবারের কষ্টের দিনগুলোর কথা আমরা কতোটা জানি?
আপনার যদি পড়া না হয়ে থাকে, চাইলে এই বইটা হাতে তুলে নিতে পারেন।

Related Articles

Back to top button