বই রিভিউ

ফানি পোস্ট রয়েছে এই বইটিতে ! পড়ে নিন এক্ষুনি!

ফানি পোস্ট করে বিপদে পড়ে গেলাম ! হিন্দুকুশ পর্বতশ্রেণী থেকে গলিত বরফের ন্যায় প্রবাহিত এক স্রোত ধারা পাল্টে দিয়েছে একবিংশ শতাব্দীর বৈশ্বিক স্ট্রাটেজী।

আলাদা করে দিয়েছে ঈমান ও কুফরের দুই শিবিরকে। ইতিপূর্বে বিশ্ব যাদেরকে ইসলামের ধারক ও বাহক মনে করতো তাদের চূড়ান্ত উদ্দেশ্যের মেরুকরণও স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিলো তখন। ৯/১১ পরবর্তী সময়ে বিশ্বের সুপারপাওয়ার আমেরিকা খোরাসানের বুকে যে আগুন জ্বালিয়েছে, সে আগুনে পুড়ে যাওয়া কয়লা থেকেই পুনরায় আগুন লেগে যায় তাদেরই তাবুতে!

কেনো ফানি পোস্ট করলাম?

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে খিলাফতের পতন ও ঈস্রাইলের উত্থানে অনেক মুসলিম প্রধান দেশই চিন্তিত ও মর্মাহত ছিলো। অতপর আশির দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের আফগানিস্তানে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ায় অনেকেই। সৌদি আরব, পাকিস্তান ও আমেরিকার প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছিলো তৎকালীন যোদ্ধাদের প্রতি।

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের কিছু কাল পরে আফগানিস্তানে শুরু হয় তা লে বা নে র ইসলামি শাসন।
তবে ইতিপূর্বেই শুরু হওয়া বিপ্লব তখন ছড়িয়ে পড়েছিল ইয়েমেন, সুদান ও সোমালিয়ায়। ৯/১১ এর পড়ে আফগানিস্তানের তা লি বা ন প্রশাসন সাময়িক পরাজয় মেনে নিয়ে আত্মগোপন করে ডুরাল্ড লাইনের গা ঘেঁষে অবস্থিত হিন্দুকুশের পাহাড়ি অঞ্চলে, পাকিস্তানের গোত্র শাসিত ৭ টি এলাকায়।ফানি পোস্ট করে বিপদে পড়ে গেলাম ! সেখান থেকে গ্লোবাল বিপ্লবের আল্ট্রা রোড ম্যাপ সাজিয়ে বিপ্লবকে ছড়িয়ে দেওয়া হয় গোটা মধ্য এশিয়ায়।
বাদ যায়নি নব্য আক্রান্ত দেশ ইরাকও। অতপর আমেরিকার মিত্র পাকিস্তানকে কোনঠাসা করে রাখতে একের পর এক প্রতিরোধের সূচনা হয়। যে প্রতিরোধের জের ধরেই আত্মত্যাগের মহিমায় সলিল ঘটে ইসলামাবাদের লাল মসজিদের।

ধীরে ধীরে প্রতিরোধ পুনরায় ফীরে যায় ন্যাটো অভিমুখেই।ফানি পোস্ট করে বিপদে পড়ে গেলাম ! তাদের রসদ সাপ্লাই লাইনকে অকার্যকর করতে নানামুখী পরিকল্পনা কার্যকর করা হয়। এভাবেই ৮০% যায়গা পুনরায় অধিকৃত হয় যোদ্ধাদের পায়ের নিচে। আর বিপ্লব ছড়িয়ে পড়তে থাকে উপমহাদেশের আনাচে কানাচেও।

📙 কেন পড়বেন বইটি?

“আরব্য রজনীর নতুন অধ্যায়” সত্যিকার অর্থে আপনাকে হাড়িয়ে নিয়ে যাবে সেই খোরাসানের বুকে। যেটা সম্রাজ্যবাদীদের গোরস্থান হিসেবে খ্যাত। আপনার সামনে খুলে যাবে অজানা এক উপাখ্যান। পশ্চিমা মিডিয়া যাদেরকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়েছিলো, বাস্তবে তারা কতটা ত্যাগী ও আল্লাহ ভীরু ছিলো সেটা জানতে পারবেন। পশ্চিমা ও তাদের দোসরদের হিপোক্রেসি আর মুসলিম নামধারী শাসকদের পদলেহন কতটা অন্ধকারময় সেটাও স্পষ্ট হবে। সাইয়েদ সেলিম শেহজাদ ছিলেন সেই সাংবাদিক যিনি হলুদ সাংবাদিকতায় না গিয়ে সত্যিটা উন্মোচন করে গিয়েছেন। ISI ও পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর কাপুরুষোচিত আচরণের মুখোশ উন্মোচন করেছেন। পরিণতিটা অবশ্য জীবন দিয়েই দিতে হয়েছিলো।

📖 বইয়ের যে বিষয়গুলো ভালো লেগেছে :
আসলে বইটির কোন্ বিষয়টি ভালো লাগেনি সেটা বের করাই দুষ্কর।

১) শাইখ ঈসা যখন পাকিস্তানের বিভিন্ন উলামায়ে কিরামের নিকট দাওয়াতি কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন, তখন ইসলামাবাদে ISI সদর দপ্তরের উপকন্ঠে অবস্থিত লাল মসজিদের মাওলানা আব্দুল আজীজ সাহেব নির্দ্বিধায় তার বক্তব্য কে মেনে নিলেন। এই বিষয়টি অত্যন্ত ভালো লেগেছে।
অতপর রচনা করলেন যুগান্তকারী এক ফতোয়া!

২) কমান্ডার ইলিয়াস কাশ্মীরি, মেজর হারুন ও বিনয়ামিন ওনাদের নিখুঁত সামরিক পরিকল্পনা ও পুরুষোচিত আচরণগুলো খুব ভালো লেগেছে।

৩) পাকিস্তানের ৭টি গোত্র শাসিত এলাকায় কিভাবে TTP পরিকল্পিত ভাবে ‘জিরগা’ কে সরিয়ে ইসলামি আইন প্রতিষ্ঠিত করেছে সেই বিষয়টিও চেতনায় আলোড়ন তুলেছে।

🔖যে অধ্যায় গুলো ভালো লেগেছে :

সব চেয়ে রোমাঞ্চিত হয়েছি সপ্তম অধ্যায়টি পড়ে। যেখানে উঠে এসেছে রনকৌশল, গেরিলা অপারেশন, প্রাকৃতিক বুহ্য ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো।

আর চতুর্থ অধ্যায়টি পড়ে ঈমান ও কুফরের বিভাজন বা মেরুকরণের উপাদান এবং ঈমানের ভিত্তিতে পটভূমি তৈরির অভিজান এই বিষয়গুলো হৃদয়ে প্রোথিত হয়েছে।

📑 ভালো লাগা প্যারা সমূহ :

“পাকিস্তানের গোত্রীয় অঞ্চলের ক্ষেত্রে একিউ নেতৃবৃন্দের ধারণা ছিলো, ২০১২ সাল পর্যন্ত এদিকে কার্যক্রম পরিচালিত হতে থাকবে। তাদের বিশ্বাস ছিল, এই সময়ের মধ্যেই তার মধ্যপ্রাচ্যের শেষ যামানার লড়াইয়ের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে থাকবে। তখন কালিমায়ে তাইয়্যেবাহ খচিত কালো পতাকা উড়িয়ে; আফগান, আরব ও মধ্যএশিয়ার মুসলিম গোত্রগুলো পাহাড় থেকে নেমে এসে প্রত্যাশিত বিজয়ের ঘোষণা দিবে।ফানি পোস্ট করে বিপদে পড়ে গেলাম ! অতপর তারা সেখান থেকে মাহদি ও প্রতিশ্রুত ঈসা মসিহের নেতৃত্বে এক নব যুদ্ধের সূচনা করবে। এক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যুদ্ধের জন্য পশ্চিমা বাহিনীর মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে। এভাবেই বিশ্বব্যাপী ইসলাম পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য দাজ্জালকে পরাজিত করা হবে।”
(তৃতীয় অধ্যায়ের সর্বশেষ প্যারা)

মজা পেয়েছিলাম,
“জামিয়া হাফসার ছাত্রীরা এক দালাল মহিলা ওরফে আন্টি শামিমকে অপহরণ করলে লাল মসজিদ সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করে।”
(দ্বিতীয় অধ্যায় – লাল মসজিদ ম্যাসাকার)

প্রেম অনুভব করেছিলাম পশতুন বীর বিনইয়ামিনের কথায়
“সাত বছর পর জেল থেকে মুক্তি পেয়ে বিনইয়ামিন গ্রামে ফিরে আসেন এবং সবার আগে বিবাহ সম্পন্ন করেন। তিনি বলেন, বিয়ের পর আমি কারাজীবনের সমস্ত কষ্ট ও ব্যাথা নিমিষেই ভুলে গিয়েছিলাম। মনে হচ্ছিলো যে, আমার কিছুই হয়নি।”

মোটকথা আজ আমাদের যুবকরা বিসিএস প্রস্তুতির জন্য সব কিছু জানছে। ন্যাটোর প্রতিষ্ঠাকাল, কারা কারা আছে এতে, জাতিসংঘের মহাসচিব কে ইত্যাদি সব। ফানি পোস্ট করে বিপদে পড়ে গেলাম !  অথচ বিস্ময়করভাবে সত্যিকারের যোদ্ধাদের একটি জগত সম্পর্কে আমরা সম্পূর্ণ বেখবর!

পরিশেষে বলতে চাই, আমার বড়ো ভাই বইটি পড়তে দেখে জিজ্ঞেস করেছিলেন “কি আলিফ লায়লার বই পড়ছিস?” হ্যাঁ এটা আলিফ লায়লার হাজার রজনী থেকেও বেশি রোমাঞ্চকর।ফানি পোস্ট করে বিপদে পড়ে গেলাম ! বেশি গোলকধাঁধাপূর্ণ ও রহস্যময়। তাই যারা বইটি এখনও সংগ্রহ করেননি, শীঘ্রই সংগ্রহ করে পড়ে ফেলুন। নয়তো অনেক কিছুই অজানা থেকে যাবে।

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button