অন্যান্যকবিতাগল্পবই রিভিউলেখক পরিচিতি

চিনি কাবাব রেসিপির গল্প লেখা আছে এই বইতে!

 

 

চিনি কাবাব  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলিম ছাত্র হিসেবে বিএ এবং এমএ ক্লাসে প্রথম শ্রেণি পাওয়া মুহম্মদ আবদুল হাইকে অনেকেই চিনেন বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন বইয়ের লেখক কিংবা ভাষাবিজ্ঞানী হিসেবে।

 

১৯৫০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থাকাকালীন ভাষা বিজ্ঞানে গবেষণার জন্য লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। চিনি কাবাব  ঢাকা থেকে কলকাতা, দিল্লী, বাগদাদ, কায়রো,মিউনিখ ও আমস্টারডাম হয়ে অবশেষে লন্ডনে পা রাখেন। পূর্বপুরুষদের শাসকদের জন্মভূমি এই ইংল্যান্ড। বইটিকে প্রবাস জীবনের স্মৃতি বললে ভুল হবে। কারণ পুরো বইটিতেই তৎকালীন সময়ের ইংল্যান্ডের অর্থনৈতিক, সামাজিক, সংস্কৃতি ও শিক্ষার পরিপূর্ণ একটি চিত্র উঠে এসেছে।পাশাপাশি দেখা গেছে আমাদের দেশের তুলনামূলক অবস্থা।চিনি কাবাব  চিনি কাবাব লেখক গিয়েছিলেন গবেষণার কাজে।ফলস্বরূপ সেখানে দুইবছরের বেশি সময় থাকতে হয়েছে ইংল্যান্ডে। তখন সেখানে নানা দেশের নানা ধর্মের মানুষের সাথে পরিচয় হয়েছে লেখকের। বইটিতে একেবারে ঘরের আদব-কায়দা থেকে শুরু করে ইংল্যান্ডের জাতীয় সমাজব্যবস্থার এক বাস্তব চিত্র দেখতে পাই।

 

সময় পরিভ্রমণের মাধ্যমে যেন সেই ১৯৫০ সালের বিলেতে চলে গিয়েছিলাম। সেখানকার শিশুদের যে রকম শিক্ষার মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় তা যদি আমাদের দেশে প্রয়োগ করা হতো তাহলে আমরাও জগৎ বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব পেতাম।লেখক বারেবারে আফসোস করেছেন আমাদের সমাজব্যবস্থা নিয়ে। ইংরেজরা কষ্টসহিষ্ণু এবং চতুর জাতি হতে পেরেছে বিধায় প্রায় পুরো পৃথিবীতে রাজত্ব চালিয়ে নিজের ঘর ভরেছে সম্পদে। প্রথমবারে বিলেত গিয়ে ঠান্ডার শিকার হওয়া কিংবা সেখানের ছুটির দিনে বেড়াতে গিয়ে হোটেলে রুম না পাওয়ার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার বর্ননা দিয়েছেন লেখক। তারপর প্যারিস ভ্রমণ এবং বিখ্যাত ল্যুভর মিউজিয়াম এ মোনালিসার ছবি দেখে শিল্প-সাহিত্যের কদর বুঝতে চেষ্টা করেছেন।

 

বইটি আসলে একটি ইতিহাস গ্রন্থ বললেও অত্যুক্তি করা হবেনা।চিনি কাবাব কারণ গত শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ের পুরো ইংল্যান্ডের একটি চিত্র তুলে ধরেছেন মাত্র ১২২ পৃষ্ঠার বইটিতে। যারা অতীতের সমাজব্যবস্থা লেখকের চোখে দেখে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে চান তাদের জন্য খুব সুন্দর একটি বই।বইটিতে কিছু জায়গায় ভুল রয়েছে যেমন ফিনল্যান্ডের জায়গায় থাইল্যান্ড কিংবা ২৪ এর জায়গায় ২৫ দেয়া। আর অনেক বানান ভুল রয়েছে, যা প্রকাশনীর অবহেলা বলে মনে করি।

 

আশা করি ভালো লেগেছে আর্টিকেলটি ! ভালো লাগলে হাওয়া খান,বাতাস দেখুন! ধন্যবাদ আনতে মারজুক রাসেল স্যার!

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button