অন্যান্যকবিতাগল্পবই রিভিউলেখক পরিচিতি

গ্রামীণফোন মিনিট অফার পাবেন আমাদের সাইটে ! কিভাবে জেনে নিন!

গ্রামীণফোন মিনিট অফার তসলিমা নাসরিনকে যারা (পক্ষ-বিপক্ষ নির্বিশেষে) নারীবাদী হিসেবে দেখতে ও দেখাতে চান, তাদের উদ্দেশ্যে একটা ছোট্ট নিবেদন।

ফেমিনিজমে অনেকগুলো আলাদা আইডিওলজি আছে, লিবারেল, মার্ক্সিস্ট, কালচারাল, র‍্যাডিকাল ইত্যাদি।
তো ফেমিনিস্ট থিওরির মধ্যে সবথেকে বেশি অনুসারী আছে লিবারেল আইডিওলজির৷ এইটা খুব সিম্পল, লিবারেল ফেমিনিস্টরা আইন ও সমাজ কাঠামোর সংস্কার চান, তবে সেইটা বিপ্লব করে না। স্রেফ আস্তেধীরে কাঠামোগত পরিবর্তন এর মাধ্যমে নারীমুক্তি আনার চেষ্টা করাটাই লিবারেল ফেমিনিজম।
ধরেন গতবছর যেই “রেপের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যদন্ডের দাবীতে” যেই মুভমেন্টটা হইলো, এইটা হচ্ছে লিবারেল ফেমিনিস্টদের আন্দোলন, কারণ এইখানে সরকার পতনের আন্দোলন হয় নাই, সরকারের কাছে আইনের পরিনর্তনের দাবী জানানো হইছে মাত্র।

এখন আসেন, র‍্যাডিকাল ফেমিনিজম নিয়া কথা বলি। র‍্যাডিকাল শব্দটাই কেমন যেমন সন্দেহজনক। ওনারা সমাজ, রাষ্ট্র, আইন, এথিকস কিছু মানেন না। ওনাদের কথা হচ্ছে এই সমাজ, রাষ্ট্র আমার নারী-স্বাধীনতায়(?) বাধা দিছে অতএব আমি এই সমাজকে ভাঙবো। গ্রামীণফোন মিনিট অফার পুরো স্ট্রাকচারটাকে ভেঙে গুড়িয়ে দিয়ে নতুন করে কী বস্তু তারা প্রতিস্থাপন করবেন, সেই রোডম্যাপটা সাধারণত ওনারা দেন না।
র‍্যাডিকালরাও ফেমিনিস্ট, তবে ওই কওমি আলেমদের মত, সোজা বাংলায় গোঁড়া আরকি। আমাদের সমাজে ফেমিনিস্ট হিসেবে যারা প্রতিনিয়ত ব্যক্তিগতভাবে ট্রলের স্বীকার হয়ে থাকেন তাদের অধিকাংশ এই র‍্যাডিকাল ঘরানার। ওনারা ব্যক্তিগত জীবনে বড় কিছু ধাক্কা খেয়ে এই বিদ্রোহী, ধ্বংসাত্মক মনোভাবটা পোষণ করেন, যেইটা ওনারা স্বীকার করেন না। গ্রামীণফোন মিনিট অফার আপনি এদের মুভমেন্ট এর উদাহরণ জানতে চাইলে অ্যান্টি-ব্রা মুভমেন্ট সম্পর্কে গুগল করতে পারেন।

তো স্বাভাবিকভাবে যদি উপসংহার টানতে যাই তবে বলতে হয় লিবারেল ফেমিনিস্টরা পাদপ্রদীপের আলোয় আসেন না বা আসতে পারেন না, কারণ “দুই প্রতিবেশি সুখে বাস করছে এটা খবর না, দুইজনে খুনাখুনি হচ্ছে এটা খবর”। এভাবে র‍্যাডিকালরা হাইলাইট হয়ে থাকেন বেশি, এবং ঠিক যে কারণে ধর্মান্ধদের গোঁড়ামির ফলে পুরো ইসলাম নিয়ে ওয়েস্টার্ন কালচার প্রশ্ন তোলে, সেই একই কারণে এই র‍্যাডিকালদের ব্যক্তিগত গোঁড়ামির ফলে পুরো সমাজ ফেমিনিজমের দিকে আঙুল তোলে।

এখন আসেন তসলিমা নাসরিনের ছবি পোস্ট করে এই অ্যাকাডেমিক জ্ঞান বিতরণ করছি কেন, (দিনশেষে আপনারা তো কেউ মনোভাব পাল্টাবেন না) তার কারণ ব্যাখ্যা করি।

উনি র‍্যাডিকাল, তবে ফেমিনিস্ট না। ঠিক যেমন তালেবান নিজেদের ইসলামের রক্ষক বলে, আর আপনি তালেবানকে উগ্র বলেন কিন্ত মুসলিম বলেন না।
আপনি এই লাইন দুইটা যদি বুঝতে পারেন তবে অভিনন্দন, নাহক তর্ক না করার জন্য অগ্রীম ধন্যবাদ (আমার সেমিস্টার ফাইনাল চলতেছে, চাইলেও কোমর বেঁধে তর্ক করতে পারবো না)।
তালেবান, আইএস, আলকায়েদার কারণে যেমন বিশ্বমঞ্চে ইসলামের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে, আমার ব্যক্তিগত মতামত হচ্ছে তসলিমা নাসরিনের কারণে বাংলাদেশে ফেমিনিস্ট আন্দোলনের ঠিক সেই ক্ষতিটাই হয়েছে।গ্রামীণফোন মিনিট অফার আমি দ্ব্যর্থহীন ভাবে বলব, উনি ফেমিনিজমকে ইউজ করেছেন, যেমনভাবে মোল্লারা ব্যবহার করে ধর্মকে।

আজকে আপনারা কমেন্ট করেন, ” খাড়া, ফেমিনিস্ট লইয়া আসতেছি”। গ্রামীণফোন মিনিট অফার এইটা কেন করেন? এইটা করেন কারণ আপনার সামনে উদাহরণ হচ্ছে তসলিমা নাসরিন এর মত র‍্যাডিকালরা।
আপনার চিন্তার খোরাক হিসেবে ছোট প্রশ্ন রেখে যাই, ওয়েস্টার্ন কালচার শুদ্ধমাত্র তালেবান দেখে মুসলিমকে জাজ করলে যেমন আপনি অখুশি হয়ে থাকেন, তেমনি আপনি যখন লিবারেল ফেমিনিস্টদের সামনে ফেমিনিজম নিয়ে ট্রল করেন, তখন তাদের অখুশি হওয়াটা কি খুব অস্বাভাবিক?

যাই হোক, ভলতেয়ার এর একটা বাণী আছে (আনাতোলে ফ্রাঁস এরও হতে পারে, স্মৃতিতে নেই) অনেকটা এরকম, “তোমার মতামত আমি ঘৃণা করি, গ্রামীণফোন মিনিট অফার কিন্ত তুমি যাতে নির্ভয়ে তোমার মত প্রকাশ করতে পারো সেটা নিশ্চিত করতে আমি আমার প্রাণ দিতেও রাজি আছি।”
আরেকটা উদ্ধৃতি দেই, এইটা আন্দ্রে জিঁদ এর, উনি (পাঁড় নাস্তিক ছিলেন) ফ্রেঞ্চ রেভ্যুলশনের সময়কার কিছু ইশ্বরভক্তকে মৃত্যুদন্ড দেওয়ায় রাগান্বিত হয়ে বলেছিলেন ” এটা কেমন রেভ্যুলেশন যে কাউকে তার বিশ্বাসের জন্য প্রাণ দিতে হচ্ছে?”

তসলিমা নাসরিনের জন্মদিনে আমরা ওনাকে দেখে শিক্ষা নেই, শুধু ওনার দোষত্রুটি নয়, জাতি হিসেবে আমাদের অসহিষ্ণুতার হিসেব-নিকেশ করে লজ্জিতও হই। ভেবে দেখেন তো, ওনাকে দেশ থেকে না তাড়ালে আজকে ওনার এতটা ইনফ্লুয়েন্স থাকতো? কাউকে মাটিতে ফেলে দিতে আন্দোলন করতে হয় না, স্রেফ ইগনোর করে গেলেই নুইসেন্সটা খতম হয়ে যায়। আপনি আমার এই পোস্ট ইগনোর করে যাবেন, আমি দ্বিতীয়বার আর এই টপিকে লেখার আগ্রহ পাবো না, এটাই স্বাভাবিক। গ্রামীণফোন মিনিট অফার জীবনটা র‍্যাশনালি দেখুন; সুস্থ স্বাভাবিক সহিষ্ণু জীবনযাপন করুন, ঠিক যেমন নবী মুহম্মদ (স) চেয়েছিলেন।

আর কাউকে তসলিমা নাসরিনের পরিনতি ভোগ করতে না হোক, চলুন সবাই সকল ধরণের গোঁড়ামি পরিহার করে মধ্যপন্থী জীবন গড়ি। তসলিমা নাসরিন অধম, তাই বলে আপনি উত্তম হবেন না কেন? স্বয়ং আপনার নবী বলেছেন মধ্যপন্থা অবলম্বন করতে, এটাই ঈমানের সর্বোত্তম পথ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button