অন্যান্য

কিভাবে গল্পের বই লিখতে হয় জেনে নিন আজকেই!

কিভাবে গল্পের বই লিখতে হয় জানেন কি?চাঁদের মত নথ পরে নিঃস্ব এক মুঘল রাজকুমারী চা বিক্রি করেন লাহোরের নিঃসঙ্গ এক ইউক্যালিপটাস গাছের নিচে। গলায় তার অপূর্ব এক হার। তবে সে রাজকুমারী কিনা এ নিয়ে মতপার্থক্যও আছে। তার চেয়েও বেশি রহস্যময় গল্প প্রচলিত আছে ইউক্যালিপটাস গাছটা নিয়ে। সে গাছে নাকি একটা জিন বাস করে। যে বংশ পরম্পরায় মুঘলদের রক্ষা করে আসছে!

 

দাদুর মুখে ছোটবেলায় এই অদ্ভুত গল্প শুনেছে সালমান। বহুবছর পর দাদুর মৃত্যুতে আবার সেই গল্পের মুখোমুখি সে। দাদুর আঁকা ছবি আর ডায়েরি কি আসলেই অর্থপূর্ণ! না পুরোটাই পাগলের প্রলাপ! জিনাত মহল কি সত্যিই তার কাছে কিছু গচ্ছিত রেখেছিল? সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সালমান সব ফেলে ছুটল মাতৃভূমিতে……

 

#ইশক

উর্দূতে একটা শব্দ আছে, যা ইংরেজিতে এক কথায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়: ইশক। প্রেমিকের থেকে আলাদা হয়ে গেলে কিংবা তার কথা বারবার চিন্তা করলে বা এরকম অবস্থায় হৃদয়ের মাঝে যে অবস্থা হয়, সেটাই ইশক। সেই অবস্থাটায় প্রেমিক হয়ে যায় প্রিয়তম। মাঝেমধ্যে সেটা দিয়ে অপূরণীয় ভালোবাসা কিংবা নস্টালজিয়াও প্রকাশ করা হয়। মৃত্যুর পরও যে ভালোবাসাটা রয়ে যায় সেটাই ইশক।

 

পোলিও আক্রান্ত পারভীন আর মিষ্টি আলু বিক্রেতা হাশিমের প্রেমগাঁথা যেন যে কোন গল্পকেও হার মানায়।কিভাবে গল্পের বই লিখতে হয় জানেন কি? জীবন সায়াহ্নে এসে সেই স্মৃতি হাতড়ে ফেরে ক্যান্সার আক্রান্ত পারভীনের বোন। পারভীনের অন্তিম সময়ে হাশিমের অসাধারণ আত্মোৎসর্গ তাকে কি আজও ঈর্ষান্বিত করে তোলে?

 

 

তারা জীবনের এক অধ্যায় পেছনে ফেলে নতুন অধ্যায় শুরু করতে চায়। যাকে বলে শেষ থেকে শুরু। মায়ের চলে যাওয়া অথবা সোহালির থেকেও না থাকার যন্ত্রণা নিয়েই পথচলা শুরু হয় তার।

 

প্রেমিকা গুলমিনার মৃত্যু বদলে দিয়েছে সোহালিকে। কিভাবে গল্পের বই লিখতে হয় জানেন কি? আর তারা খুঁজে চলছে এমন এক অদৃশ্য সত্ত্বাকে যার কারণে আজ এত অনর্থ!

 

বেশ বাজে রকম রিডার্স ব্লকে পড়েছি। অনেকদিন হয়ে গেছে কিছু পড়তে পারিনি। পরে সিদ্ধান্ত নিলাম ছোট ছোট গল্প দিয়ে চেষ্টা করি। দেখি ফিরতে পারি কিনা! সেই চিন্তা থেকেই বইটা হাতে নেয়া।

 

এই লেখকের সাথে পরিচয় এই বইটার সুবাদেই। প্রথম গল্পটা পড়া শুরু করে দেখলাম বেশ ভালোই লাগছে। কিন্তু ব্লকের কারণে এগুতে পারছিলাম না। মোটামুটি ১৫ পাতা পড়ার পর আবার রেখে দিয়েছিলাম। কিভাবে গল্পের বই লিখতে হয় জানেন কি?এরপর আবার কালকে ধরলাম। এবার আর আটকে থাকতে হয়নি। ফলাফল: বহুদিন পর আমি আস্ত একটা বই শেষ করলাম!

 

এ তো গেল আমার করুণ অবস্থার ফিরিস্তি। এবার বই নিয়ে কিছু বলা যাক।

 

“দ্য পপার প্রিন্স অ্যান্ড দ্য ইউক্যালিপটাস জিন” গল্পটা পড়ার সময় অদ্ভুত একটা অনুভূতি হচ্ছিল। আর প্রথমটাতে আসলে বোঝাও যায়নি ঘটনা আসলে কোন দিকে মোড় নিচ্ছে। এক অাজব বুড়ো তার আজব গল্প নাতিকে শুনিয়ে গেছে সেই ছেলেবেলা থেকেই। সেই গল্পই যে বংশ পরম্পরা এত অদ্ভুতভাবে বয়ে বেড়াতে হবে আর শেষটা যে এতটা অবিশ্বাস্য হবে সেটা আসলে নিজে না পড়লে অন্যের বয়ানে ব্যাখ্যা করা মুশকিল। সালমানের দাদুর চরিত্রটি মনে থাকবে বহুদিন।

 

“ইশক” আপনাকে নতুন করে ভাবতে শেখাবে। আমাদের আবেগ অনুভূতির কতশত দিক আছে! একই সাথে ভালোবাসা আর ঈর্ষা নিয়ে বেঁচে থাকাটা কতটা কঠিন তাও উপলব্ধি করতে পারবেন এই গল্পে।

 

পদার্থ কেবল রূপ বদলায়। কঠিন, তরল, বায়বীয়, প্লাজমা। এর সাথে কি মানবজীবনের কোনো মিল আছে?

এই প্রশ্নের উত্তর আছে “দ্য ভ্যাপোরাইজেশন এনথালপি অব অ্যা পিকিউলিয়ার পাকিস্তানি ফ্যামিলি”- এই অসাধারণ গল্পটিতে।

 

ছোট কলেবরের এই বইটি পড়তে সময় কম লাগলেও অভিজ্ঞতাটা বেশ দারুণ ছিল। ইচ্ছে রইল আবার তার ‘লেখা’ পড়ার।কিভাবে গল্পের বই লিখতে হয় জানেন কি? অনুবাদকদ্বয়কে ধন্যবাদ লেখকের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবার জন্য।

 

বেশ ঝরেঝরে অনুবাদের বইটি পড়তে কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি। ভূমি প্রকাশনের পরিবেশনা বরাবরের মতই সুন্দর।কিভাবে গল্পের বই লিখতে হয় জানেন কি? প্রচ্ছদটাও বেশ।

 

ছোটগল্পপ্রেমীরা অনায়াসেই এই বইটা পড়ে দেখতে পারেন। আশা করি খারাপ লাগবে না।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button