অন্যান্য

কাবাব রেসিপি – রেডিমেড কাবাব রেসেপি দেখে নিন !

কাবাব রেসিপি বাংলা অনেকদিন পর পুরোনো এক বন্ধুর বিয়েতে গিয়ে তিন বন্ধু যাদের একজন সাংবাদিক রুমি, অধ্যাপক হাসান এবং নৃবিজ্ঞানী মারুফের মধ্যে আড্ডা জমে ওঠে। স্মৃতি হাতড়ে নিজেরা অনেক কথা বলতে থাকে এবং আড্ডার এক পর্যায়ে তাদের পুরানো বন্ধু শওকত এর কথা মনে পড়ে তাদের। শওকত এর সাথে যোগাযোগ আগের মত নেই ঠিকই কিন্তু এক বন্ধু তখন বলে যে শওকত বর্তমানে একজন জনপ্রিয় “ভেন্ট্রিলোকুইস্ট”। কাবাব রেসিপি বাংলা কিন্তু রুমি একথায় বেশ অবাক হয় কেননা শওকত কলেজে থাকতে একবার অসুস্থ হয়ে গিয়েছিলো যার জন্য ডাক্তার বলেছিলো শওকত কখনো কথা বলতে পারবেনা।

 

যার কারণে অসুস্থতার পর একপ্রকার বোবা হয়ে গিয়েছিলো শওকত। নিজের এই কথা বলতে না পারার জন্য আস্তে আস্তে দূরে সরে গিয়েছিলো সে। কিন্তু তাদের সেই বোবা বন্ধুই যখন একজন ভেন্ট্রিলোকুইস্ট যেখানে তাকে কন্ঠের কারসাজির মাধ্যমে তার কাজ সম্পন্ন করতে হয় নিঁখুতভাবে তখন তারা বেশ অবাক হয়। রুমি আর মারুফ দুজনেই বেশ কৌতুহলী হয়ে উঠলো শওকত এর ব্যাপারে৷ শওকত এর এমন হঠাৎ পরিবর্তনে তারা দুজনে বেশ খোঁজ খবর নেয়া শুরু করে। শওকত এর সাথে দুজনের দেখা হবার পর শওকত কে নিয়ে ওদের দুজনের সন্দেহ আরো দৃঢ় হয়। শওকত এর এমন হঠাৎ পরিবর্তনের রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে দুই বন্ধু খোঁজ পায় এক বিরাট বাহাই কাবাব রেসিপি বাংলা টেম্পলের যার আন্ডারগ্রাউন্ড অত্যাধুনিক একটি ল্যাব রয়েছে। এসবের পেছনে ছুটতে গিয়ে তারা মুখোমুখি হয় মৃত্যুর কিন্তু রুমি সহজে হাল ছাড়ার পাত্র নয়। ধীরে ধীরে ব্যাপার টার সাথে মারুফের পরিবার ও জড়িয়ে যায় সাথে জড়িয়ে যায় বন্ধু হাসান।

 পাঠপ্রতিক্রিয়া ও পর্যালোচনা:
১৯১ পৃষ্ঠার একটা বইতে কিভাবে ভেন্ট্রিলোকুইজম, বাহাইজম, বাহাই টেম্পল, বায়োলজিক্যাল উইপন, জরাথ্রুস্টবাদ এর মত ব্যাপার নিয়ে খুব সুন্দরভাবে আলোচনা করা যায় লেখক মাশুদুল হক সেটা দেখিয়েছেন। বইটা শুরু হয়েছিলো একজন ভেন্ট্রিলোকুইস্ট বন্ধু কে নিয়ে কিন্তু সেটা ডালপালা মেলে গিয়ে ঠেকেছে বেশ কিছু জায়গায় তবে সে বিষয়গুলো যতটা অল্প ভাষায় পারা যায় লেখক বর্ণনা করার চেষ্টা করেছেন। বইটাতে মূলত গল্পকথক হচ্ছে মারুফ তাই মারুফের বয়ানেই পুরো কাহিনী আবর্তিত হয়েছে সুন্দরভাবে। সাসপেন্স টুকু বজায় ছিলো শেষ পর্যন্ত। কাবাব রেসিপি বাংলা একজন ভিলেন এর ভিলেন হয়ে ওঠার পেছনে কারণসমূহ এই ব্যাপার টাও অল্পের মধ্যেও লেখক প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছেন। অল্প কথায় যদি বলি ত বলবো একটা বইয়ে এতকিছু গুছিয়ে লেখা বেশ কষ্টসাধ্য বটে কিন্তু তবুও লেখক বেশ গুছিয়ে লিখতে পেরেছেন তার প্রথম বই। আর বইটা লেখার পেছনে যে তিনি যথেষ্ট শ্রম দিয়েছেন তার ছাপ প্রতি পৃষ্ঠাতেই রেখেছেন কেননা বইটা শুধু থ্রিলার বললেও ভুল হবে বইটা অনেক তথ্যে ঠাসা একটা বই যার জন্য বেশ আগ্রহ নিয়ে শেষ করেছি বইটা।

 বইয়ের চরিত্র:
বইয়ের চরিত্র মূলত বন্ধু রুমি, মারুফ, হাসান আর শওকত। তবে মাঝের দিকে শওকত অনুপস্থিত ছিলো। শওকত এর আগমন ঘটেছে শেষ পর্যায়ে। আবার মাঝের দিক থেকেই ছিলো ভিলেন ডা. রুশদি। তাই বলা যায় বইয়ের প্রায় আশি ভাগেই ছিলো রুমি আর মারুফ।
রুমি চরিত্র টা বেশ জিনিয়াস একটা চরিত্র তাই পুরো বইতে এই একটা চরিত্র পাঠকের পছন্দ হবার যোগ্য।
তবে এছাড়াও জয়নাল,মিলি,রানু,বেনু,লোকমান,রশিদ ছিল যাদের অল্প সময়ের আগমন ঘটলেও লেখক তাদের বেশ ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন।

 লেখকের বর্ণনাভঙ্গি:
প্রথম বই হলেও লেখকের বর্ণনাভঙ্গি ছিলো প্রসংশা করার মত। তার লেখায় ড্যান ব্রাউন এর ছাপ পাওয়া যায়। বইটা তিনি বেশ গুছিয়ে লিখেছেন। যেখানে যতটুকু বর্ণনার প্রয়োজন সেখানে তিনি ততটুকু বর্ণনাই করেছেন যেটা ছিলো বইয়ের অন্যতম পজিটিভ দিক। অযথা পেজ বাড়ানো হয়নি। এমনকি বাহাই টেম্পল এর প্রতিটা কোণের বর্ণনাও লেখক এমনভাবে দিয়েছেন যেন মনে হয়েছে প্রজেক্টরের মাধ্যমে কিছু দেখানো হচ্ছে। কাবাব রেসিপি বাংলা তবে শেষদিকে এসে গোল্ডেন রেশিও টা আমার কাছে বুঝতে একটু কঠিন লেগেছে এবাদে আর কোনো সমস্যা হয়নি কোথাও।

 বইয়ের সমাপ্তি:
লেখক বইয়ের শুরুতে কয়েকটা গিট লাগিয়েছিলেন। আর সেই গিট খুলেছেন একদম শেষদিকে এসে আস্তে আস্তে। বইতে টুইস্ট থেকে মূখ্য ব্যাপার ছিলো বইটা বেশ গতিশীল ছিল। আর আমার মতে তথ্যের দিকটা একটু ভারী করতে গিয়ে শেষ দিকে এসে টুইস্ট টা কেমন যেন জমে ওঠেনি ধরনের হয়ে গিয়েছে তবে তা সত্বেও বইটা যথেষ্ট উপভোগ্য।

 যে ব্যাপারগুলো ভালো লাগেনি:
লেখক বইতে বিভিন্ন কনভারসেশন এ ইংরেজি ভাষা ব্যবহার করেছেন যেটা আমার কাছে একটু মাত্রাতিরিক্ত লেগেছে, মনে হয়েছে সেখানে ইংরেজি কম ব্যবহার করলে আরো সুখপাঠ্য হতো।

বইটাতে রুমি চরিত্র টা নিঃসন্দেহে জিনিয়াস একটা চরিত্র কিন্তু একদম সব জায়গায় সব বিষয়েই তার যে অঘাদ জ্ঞান সেটা আমার কাছে ভালো লাগেনি। অন্যদিকে মারুফ কে একটু বোকা ভাবে ফুটিয়ে তোলাটাও ভালো লাগেনি। আমার মতে দুজনকেই সমান সমান করলে ভালো লাগত।

 বানান, প্রচ্ছদ ও অন্যান্য:
বাতিঘরের কিছু বইতে প্রচুর বানান ভুল আবার টাইপিং মিসটেক পেয়েছি তবে সেদিক থেকে ভেন্ট্রিলোকুইস্ট তেমন নয়। বিশেষ করে যুক্তবর্ণ  কাবাব রেসিপি বাংলা এর জায়গাগুলোতে যুক্তবর্ণ আসেনি আর ‘হ্যাঁ’ কে সব জায়গায় ‘হ্যা’ লেখা হয়েছে।
প্রচ্ছদ বর্তমানের টা থেকে আগের এডিশনের টাই বেশি ভালো লেগেছিল। তবে এখন যে এডিশন আছে এটার নামলিপি টা বেশ পছন্দ হয়েছে।
বাঁধাই মধ্যম মানের ছিল। বেশি মেলে পড়তে গেলে খুলে যাবার মত অবস্থা ছিল।

সব কথার শেষ কথা ভালো খারাপ নিয়েই একটা বই তবে এ বইতে ভালোর দিকটাই আমার কাছে বেশি। তাই যারা থ্রিলার, এডভেঞ্চার বা একটু তথ্যবহুল বই পছন্দ করেন তাদের ভালো লাগবে আশা করি।

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button